প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Nov 9, 2025 ইং
রাশিয়া থেকে প্রথম মালবাহী ট্রেন এলো ইরানের আপরিন স্থলবন্দরে

রাশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো মালবাহী ট্রেনে পণ্য এসে পৌঁছেছে ইরানের আপরিন স্থলবন্দরে। শনিবারের এ ঘটনায় তেহরান এবং মস্কোর মাঝে বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো এবং ভবিষ্যতে ইরান, রাশিয়া, এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে নিয়মিত রেল যোগাযোগের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। খবর- তেহরান টাইমস
রাশিয়া থেকে লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে তেহরানের কাছাকাছি অবস্থিত আপরিন স্থলবন্দরে এই মালবাহী ট্রেনটি নিয়ে এসেছে ৬২টি চল্লিশ ফুট কন্টেইনার। এগুলোতে রয়েছে কাগজ পণ্য, কাগজের মণ্ড, এবং এ জাতীয় কিছু পণ্য যা ইরান ও ইরাকে সরবরাহ করা হবে। ১২ দিনের এই যাত্রায় ট্রেনটি কাজাখস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান পার হয়ে এরপর ইনচেহ বরুন সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশ করে। ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রানজিট করিডোরের (আইএনএসটিসি) জন্য এটি একটি অভিনব সাফল্য।
যে কারণে এই ট্রেনটি ইরান ও রাশিয়ার জন্য একটি মাইলফলক
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সোভিয়েত আমলে ইরানের সাথে সোভিয়েত ইউনিয়নের রেল যোগাযোগ অটুট ছিল। তবে ১৯৯০ এর দশকে প্রথম আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে নাগর্নো-কারাবাখ যুদ্ধের সময়ে এ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ২০০০ সাল থেকে তেহরান আবারও রাশিয়ার সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু করে। আইএনএসটিসি একটি ট্রানজিট করিডোর যার জন্য রাশিয়া, ইরান ও ভারতের মাঝে প্রথমে চুক্তি স্বাক্ষর হয় ২০০২ সালে। এতে আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, কাজাখস্তান, বেলারুশসহ আরো কিছু দেশ যুক্ত হয়। মূলত মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে জাহাজ, রেল, ও স্থলপথে বাণিজ্যে সময় ও খরচ কমিয়ে আনা এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই করিডোর পুরোপুরি চালু হলে সুয়েজ খালের উপরেও নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা যাবে বলে মনে করা হয়। ইরান এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলো যাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র দেশগুলো প্রায়ই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাদের জন্য এই সুয়েজ খালের বিকল্প পথে বাণিজ্য অনেক ক্ষেত্রেই লাভজনক।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুনধারা